Chandpur Nagorik Logo
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
Breaking
চাঁদপুরে নতুন সড়ক উদ্বোধন | Chandpur Road Development Project Started | নদী ভাঙন রোধে নতুন প্রকল্প | Local Election Update | নতুন ব্রিজ নির্মাণ শুরু
চাঁদপুরে নতুন সড়ক উদ্বোধন | Chandpur Road Development Project Started | নদী ভাঙন রোধে নতুন প্রকল্প | Local Election Update | নতুন ব্রিজ নির্মাণ শুরু
সারাদেশ

ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরল শতাধিক প্রাণ: ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক|২০২৬-০৩-২৭|১:৫৮ পিএম
ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরল শতাধিক প্রাণ: ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি হিসাব

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের মধ্যে নিহতের সংখ্যায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেলেও, এটা স্পষ্ট যে এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দুর্ঘটনা ও নিহতের পরিসংখ্যানে অমিল

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঈদের সাত দিনের ছুটিতে (১৭ থেকে ২৩ মার্চ) ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন।

তবে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক তথ্যে চিত্রটি আরও ভয়াবহ। তাদের মতে, এই একই সময়ে অন্তত ২৬৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৬০০-এর বেশি মানুষ। বিআরটিএ-র একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ছুটির কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক দুর্ঘটনার তথ্য এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

হাসপাতালগুলোর চিত্র

সরকারি খাতায় সারাদেশে ২১৭ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও, শুধুমাত্র রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালেই (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান) ঈদের আগের রাত থেকে পরের দিন বিকেল পর্যন্ত ১৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দুর্ঘটনার মূল কারণ: বেপরোয়া মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার

বিশেষজ্ঞরা এবং স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এবারের বেশিরভাগ দুর্ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক বা অটোরিকশার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সোমবার একদিনেই সেখানে ৩০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই ছিল কিশোর বয়সী, যাদের মাথায় হেলমেট বা পকেটে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। ফাঁকা রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং অনভিজ্ঞতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, "মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে যখন একই রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক চলে, তখন দুর্ঘটনা অবধারিত। এসব ছোট যানে যাত্রীদের সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই, ফলে সামান্য ধাক্কাতেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে।"

সামনে আরও শঙ্কা

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল চৌধুরী জানান, সাধারণত ঈদের আগে সড়কে প্রশাসনের যে কঠোর নজরদারি থাকে, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় তা অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়ে। ফলে এই সময়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি আরও বেড়ে যায়।

অফিস-আদালত খুলতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক দিন ধরে মানুষের কর্মস্থলে ফেরা অব্যাহত থাকবে। এই পুরো সময়ের সম্পূর্ণ তথ্য হাতে এলে প্রাণহানির সংখ্যা যে আরও বাড়বে, তা এক প্রকার নিশ্চিত করেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

(ছবিঃ এআই)

ট্যাগসমূহ:

#সড়ক_দুর্ঘটনা#ঈদযাত্রা#ঈদুল_ফিতর#বিআরটিএ